ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় লামিয়া আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে মরদেহ রেখে স্বামী ও তার স্বজনেরা চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
লামিয়া ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে। সে নানাবাড়িতে থেকে মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলে যাতায়াতের সময় একই উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার রনি শেখের সঙ্গে লামিয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয়। রনি শেখ পেশায় গ্যারেজ মিস্ত্রি। ওই সম্পর্কের জেরে গত ২০ জুলাই তারা পালিয়ে বিয়ে করে আত্মগোপনে চলে যায়।
চলতি মাসে দুই পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্ধান পান। পরে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে পরিবারগুলো বিয়েটি মেনে নেয়। এর পর প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুনসুরাবাদ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তারা সংসার শুরু করে।
লামিয়ার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসীর অভিযোগ, সংসার শুরুর পর ভাড়া বাসায় তার নাতনির ওপর স্বামী ও শাশুড়ি একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালান।
তিনি দাবি করেন, লামিয়াকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় আঙুলের দাগ এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিবারের এই সদস্যের অভিযোগ, লামিয়াকে হত্যার পর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দেওয়া হয়।
স্বজনেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তখন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সেখানে ছিলেন না। এ ঘটনায় তদন্ত করে রনিকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন লামিয়ার নানা।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
