যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর একটি ‘সোনালি সুযোগ’ হিসেবে দেখছে ইরান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দুজনই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর একই অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিত হওয়ার কথা এটিই প্রথম।
ইরানি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইরানের প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে ঘোষণা দিতে হবে যে তারা কূটনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায়। এরপর বিষয়টি আনুষ্ঠানিক করা এবং আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সময়সূচিতে সম্মত হতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেই এতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আগ্রহী। তবে ইরানকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান ছাড়া এসব দেশের সবকটিতেই বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চলমান সংঘাতে এসব ঘাঁটি ইরানের হামলার লক্ষ্য হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশগুলোর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারত্বও চাপে পড়েছে।
সৌদি আরবও চলতি মাসে সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিও হুমকির মুখে পড়েছে।
রয়টার্সের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল রপ্তানি শুরু করতে পারবে দেশটি।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন বিঘ্ন এড়িয়ে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সৌদি আরবের জন্য এই পাইপলাইনটি প্রধান বিকল্প পথ। ১০ সেপ্টেম্বর হামলার পর এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই হামলার জন্য ইরানের মিত্র ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল সৌদি আরব।
ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে কাতারের একটি নিরাপত্তা প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে কাতার।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেছেন, এ ধরনের ব্যবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানোর বিষয় থাকতে হবে।
আঞ্চলিক একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
ইয়েমেনে হুতি যোদ্ধারা কাহবুব পর্বতমালার কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
কাহবুব এলাকা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে নজর রাখে। ফলে অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে উভয় এলাকার ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আরও কয়েক দশ হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
