যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অঞ্চলটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উপস্থিতি থেকে মুক্ত করার কথাও বলেছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার প্রকাশিত আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এমন সময় এ বক্তব্য দিল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় ফিরতে চাইলে এখনো আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কিছু শর্ত জানিয়েছে। তেহরান যুদ্ধের অবসান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ কয়েকটি বিষয়কে আলোচনায় ফেরার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরান ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়নি।
তার দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরাক প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। একই সময়ে দেশটির মাসিক রপ্তানি আয় প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। রয়টার্সের ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার মাত্র দুটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে সংঘাতের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ইরানের সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার জানায়, তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহান থেকে ইরাকের নাজাফে তাদের ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে।
ফলে ইরানের বিমান চলাচল খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরগুলোর অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তেহরানের। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক আলোচনার জন্য পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল এখনো ব্যাপকভাবে সীমিত। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।
