চট্টগ্রামে পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর আদর্শ অনুসরণের কথা বলেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু রবিউল আউয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর তাঁর আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাসুল (সা.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য অনুধাবন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ নিহিত।
তিনি আরও বলেন, রাসুল (সা.) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনার জন্যও আদর্শ রেখে গেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মদিনায় ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণকারী ব্যক্তিরা ক্ষমতা বা গদির জন্য রাজনীতি করেন না; বরং ইসলামী জীবনবিধান রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম দিয়েই ইসলামের প্রবেশ ঘটেছিল এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রাসুল (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক হবে—এমন বক্তব্যও দেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান তাঁর বক্তব্যে রাসুল (সা.)-এর নেতৃত্ব ও জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজের অনাচার ও অবিচার দূর করতে তাঁর আদর্শ অনুসরণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি স্বৈরাচার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি তাঁর বক্তব্যে জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা ও সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে কথা বলেন। ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণ নিশ্চিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আজহারী রাসুল (সা.)-এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার, পরামর্শ গ্রহণ, চুক্তির মর্যাদা, সংঘাত ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক ঐক্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলামও চলমান মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ন্যায়বিচার, সমমর্যাদা, অধিকার, সম্পদের সুষম বণ্টন ও সামাজিক সংহতির কথা উল্লেখ করেন।
মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হোসাইনসহ অন্য নেতারা। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
