বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ‘জল্লাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, চারদিকে তারা অবস্থান করছে। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে মরহুম সাংবাদিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
রিজভী একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিকম নম্বরে যোগাযোগ করে কোথাও থেকে বোমা সংগ্রহ এবং বিস্ফোরণের পর তার ছবি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ছবি পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার কথাও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি চারদিকে ‘জল্লাদরা’ অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন।
বিরোধী দলের দুটি লংমার্চ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের বিরোধিতা করা ১১ দলের জোটের কর্মসূচি পালন, কথা বলা এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক দুটি লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অতীতে রোডমার্চ ও লংমার্চে বাধা এবং কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া মানুষের ওপর হামলার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
রিজভী বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন ও বক্তব্য দিতে পারে। তবে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যে সত্য তথ্য উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।
গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং এসব বিষয়ে বিরোধী দল তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পদত্যাগের বিষয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুর পার্থক্য রয়েছে।
রিজভী বলেন, বিএনপি বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য কঠোর হলেও সভ্য ভাষায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো না কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মৃত্যু নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, রুহুল আমিন গাজীকে জেলে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ছাড় দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
