রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম এবং ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুক্রবার (৩১ জুলাই) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করে।
দুপুরে বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধি দলটি সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যায়। সফরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি, জীবিকায়ন এবং অন্যান্য মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করবে। এ ছাড়া ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন, ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট (৮ডব্লিউ) এবং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনেরও কর্মসূচি রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্যসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনাই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি শরণার্থী ক্যাম্পে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তাদের জন্য বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রধান দাতা দেশের ভূমিকা পালন করে আসছে।
দিনব্যাপী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দলের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সফর রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
