চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ঘাটে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ রবিনের মরদেহ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’-এর ডুবুরি দল ঘাটের পন্টুনের নিচ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে শুক্রবার দুপুর ১২টার পর থেকে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপুলিশ রবিনকে উদ্ধারে অভিযান চালায়।
রবিনের বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। মতলব উত্তর উপজেলার নবীপুর এলাকার নাসরিন আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘মকবুল-২’ লঞ্চটি ষাটনল ঘাটে পৌঁছালে রবিন লঞ্চ থেকে নেমে যান। পরে ফেলে যাওয়া ব্যাগ আনতে আবার লঞ্চে ওঠেন। নামার সময় চালক হঠাৎ লঞ্চটি পেছনে চালিয়ে দিলে লাফ দেওয়ার সময় তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে যান।
পুলিশ, লঞ্চের যাত্রী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, চালক বা সুকানির অসাবধানতায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নৌপুলিশ লঞ্চটি জব্দ করে এবং এর দুই স্টাফ—সুকানি মনির হোসেন ও গিজারম্যান সুমনকে আটক করে।
মতলবের বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে আটক সুকানি ও গিজারম্যানকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ‘মকবুল-২’ লঞ্চটিও জব্দ রাখা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, রবিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনার পর থেকে স্বামীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় নাসরিন আক্তার সন্তানকে নিয়ে ষাটনল ঘাটে অবস্থান করছিলেন। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি আহাজারি করতে থাকেন।
নাসরিন জানান, কয়েক মাস আগেও তাঁর স্বামীর কোনো চাকরি ছিল না। পরে তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি পান। কিছুদিন ধরে নাসরিন তাঁর বাবার বাড়িতে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকছিলেন। রবিন তাঁদের দেখতে লঞ্চযোগে আসছিলেন।
নাসরিন বলেন, “আমি এখন আমার মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? আমার স্বামীই আমাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
