যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) প্রধান হেইডি ওভারটন টিকার পক্ষে সতর্কভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিনেটে তাঁর নিয়োগ অনুমোদনের শুনানিতে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে তাকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
হোয়াইট হাউসের বর্তমান উপদেষ্টা ওভারটনকে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রশ্ন করেন সিনেটররা। বিশেষ করে টিকা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
গত মাসে ওভারটনকে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেখা যায়, যখন ট্রাম্প হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা টিকায় ভাগ করার উদ্যোগ নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। ওই সময় ট্রাম্প এই বহুল ব্যবহৃত সম্মিলিত টিকা প্রাণঘাতী হতে পারে বলে দাবি করেছিলেন।
সিনেটের শুনানিতে ওই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওভারটন বলেন, এমএমআর টিকা বর্তমানে এফডিএ অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তিনি আরও বলেন, টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর এবং হাম মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি বছর পেনসিলভানিয়ায় টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে টিকা নেওয়ার হারও কমছে।
রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডি ওভারটনকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে কোনো অনিরাপদ টিকা রয়েছে কি না। জবাবে ওভারটন বলেন, এফডিএর তথ্য অনুযায়ী, বাজারে থাকা প্রতিটি টিকাই নিরাপদ ও কার্যকর।
ওভারটনের এই বক্তব্য ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের অবস্থানের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেনেডি দীর্ঘদিন ধরে টিকা নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করে আসছেন।
তবে টিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ভুল কি না—এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান ওভারটন। একইভাবে, কোনো প্রেসিডেন্টের নির্দেশ জনস্বাস্থ্যের স্বার্থের পরিপন্থী হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
ওভারটন জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত আলোচনা’ হয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্টকে নিজের ‘সর্বোত্তম পরামর্শ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
সিনেটররা গর্ভপাতের ওষুধ নিয়েও ওভারটনকে প্রশ্ন করেন। এর আগে তিনি এই ওষুধকে ‘নারীদের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কারণ খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও এফডিএর নিয়ন্ত্রণাধীন।
৩৭ বছর বয়সী ওভারটনের নিয়োগ সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি এফডিএর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রশাসক হবেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এফডিএ নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটিতে ব্যাপকসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই হয়েছে, বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদ ছেড়েছেন।
