জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইমের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর মা পারভীন আক্তার। তিনি দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজে ছেলেকে গুলি ও নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করলেও এখনো কারও বিরুদ্ধে বিচার কার্যকর হয়নি। একই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং আহতদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যমঞ্চে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘২০২৪-এর রক্তিম বর্ষার সন্তান হারানো মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি’ অনুষ্ঠানে এসব দাবি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের মায়েরা। এছাড়া শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারাও বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শহীদ ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইমের মা পারভীন আক্তার বলেন, “আমি সিসি ক্যামেরায় দেখেছি, কারা গুলি করেছে আমার ছেলেকে, কারা তাকে মারধর করেছে এবং টেনে নিয়ে গেছে। সবাইকে আমি চিনি। কিন্তু আজও কারও বিচার হচ্ছে না। আমি সরকারকে বলব, আমার সন্তানসহ সব শহীদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।”
শহীদ মেহেরুন্নেসা তানহার মা আছমা আক্তার বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, শহীদ হত্যার বিচার এবং আহতদের যথাযথ দেখভালের দায়িত্ব সরকারকে পালন করতে হবে। অন্যথায় স্বজন হারানোর এই বেদনা পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকবে।
আরেক শহীদ মেহেদী হাসানের মা পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে কোনো অপরাধ ছাড়াই পুলিশের গুলিতে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “দুই বছর পার হলেও আমরা বিচার পাইনি, এমনকি বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তাও দেখতে পাচ্ছি না।” দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, কেউ যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি মুছে ফেলতে চায়, তবে তা সম্ভব হবে না। তাঁর ভাষায়, ওই সময়ের ঘটনাগুলোর বাস্তবতা কেবল সেই সময়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষই উপলব্ধি করতে পারবেন।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য নুসরাত তাবাসসুম শহীদ জননীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের সন্তানদের আত্মত্যাগের কারণেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁদের নিজেদের সন্তানের মতো গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, জুলাই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হলে তা তাঁদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুই বছর না যেতেই অনেকেই শহীদদের ভুলতে শুরু করেছেন, অথচ তাঁদের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নই হওয়া উচিত মূল অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের উপস্থিতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি দেশাত্মবোধক গানের অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশ করা হয়। তিনি জানান, গানটি থেকে আগামী ৬০ বছরে যে অর্থ আয় হবে, তা জুলাই ফাউন্ডেশনের তহবিলে দান করা হবে।
