দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে বিমান ভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। দেশটির সরকার নির্বাচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি বোয়েসেলসহ আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েটস রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এসব বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে ‘জিরো কস্ট’-এ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এসব কর্মীর বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় বহন ছাড়াই তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।
প্রথম বহর বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এজেন্সিগুলোর যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে স্বচ্ছভাবে এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের নজির আগে ছিল না। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়েছে। অবশিষ্ট ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল দ্রুত বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টার যাচাই-বাছাই করবে। এরপর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ঠিক কী প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হবে, তা এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা জারি করবে।
তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট বা পাসপোর্ট জমা না দিতে কর্মপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
