কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনা সদস্য সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ঢাকা) ইন্টারপোলের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তথ্য ও নথি পর্যালোচনার পর সংস্থাটি দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তনু হত্যার সময় দুজনই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের কাছের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ সময় মামলাটির তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এ সময়ে মামলার কোনো সুরাহা হয়নি। পরে ২০২০ সালে মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ওই বছরের অক্টোবরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এরপর জুনে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
আদালতের আদেশের পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকার কাছে অনুরোধ পাঠায়। এরপর দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের পাঠানো তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।
তনু হত্যা মামলার তদন্ত এখন পিবিআইয়ের অধীনে রয়েছে।
