ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। একই ঘটনায় বাঁধনের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার সকালে আসিফ মাহমুদ এবং আগের দিন দিবাগত রাতে সারজিস আলম নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পৃথক পোস্ট দিয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান।
আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনায় তিনি নিন্দা জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রত্যাখ্যাত রাজনৈতিক শক্তির নেতা-কর্মীরা এখনো হামলা ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বাঁধনের ওপর হামলা তাদের পুরোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে বাঁধন সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন এবং দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।
তিনি বলেন, হামলা, ভয় দেখানো বা সহিংসতার মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ইতালিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দেশটির আইনে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বাঁধনকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাঁধন দেশের জন্য এবং দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।
হামলাকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, তাঁদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করার সুযোগ নেই।
বাঁধনের উদ্দেশে তিনি লেখেন, তাঁরা সবাই তাঁর সঙ্গে আছেন এবং পুরো বাংলাদেশ তাঁর সঙ্গে রয়েছে।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। সোমবার রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশটির একটি পার্কে গেলে তিনি হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে ঘটনার বিস্তারিত জানান বাঁধন এবং হামলা ও হেনস্তার কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
