ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সম্মান রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিন কারিগরি ত্রুটির কথা বলে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান না থাকায় তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক।
তিনি আরও দাবি করেন, তারেক রহমান সম্মেলনে না যাওয়ার কথা জানানোর পরদিন কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্য রিজভীর দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছিল এবং ১৩ সেপ্টেম্বর তা পুনরায় চালু করা হয়। রাজনৈতিক কারণে সরবরাহ বন্ধের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রিজভী আরও বলেন, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থানরত আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। তিনি বিষয়টিকে গভীর কোনো চক্রান্তের অংশ বলে উল্লেখ করে বিচারাধীন ব্যক্তিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তোলেন।
দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের তুলনায় বেড়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ চলছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া বর্তমান সরকার বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য নষ্টের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন রিজভী। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির প্রতি অপমানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
