এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে আজ প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। শুরুতেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায়।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়াতে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও ফুটবল, ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা আগেই শুরু হচ্ছে। নারী ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া।
শক্তির বিচারে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি কঠিন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১তম, আর বাংলাদেশ ১০৭তম। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ ধাপ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এখন পর্যন্ত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। এশিয়ান গেমসে এর আগে একবারই অংশ নিয়েছে তারা। ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ ড্র করে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপে খেলেছে এবং ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। এশিয়া মহাদেশে তারা তিনবার সেরা হয়েছে। অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে দুবার। এশিয়ান গেমসে ছয়বার সোনার লড়াইয়ে নেমে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি।
এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের হিসাবের চেয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো ফুটবল খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, দলটি বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ান গেমসে এসেছে। কঠিন গ্রুপ সম্পর্কে তারা জানে, তবে এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও খেলাটি উপভোগ করতে চান।
উত্তর কোরিয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার হবে ম্যাচটি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ১৯তম, বাংলাদেশের চেয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে। পাঁচবার বিশ্বকাপে খেলা দলটি এশিয়ান গেমসে নয়বার অংশ নিয়ে তিনটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। সিনিয়র পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবারই প্রথম খেলবে বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। মিয়ানমারের র্যাঙ্কিং ৫৫, যা বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে। তবে তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে মিয়ানমারের বিপক্ষেই বাংলাদেশের মেয়েদের খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বেশি। দুইবার মুখোমুখি হয়ে একবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। কোচ বাটলার মনে করেন, প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে দল।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি ধাক্কা হলো, চোটের কারণে ফর্মে থাকা ডিফেন্ডার নবীরণ খাতুন পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তবে নবীরণ ছাড়া দলের অন্য কোনো খেলোয়াড়ের চোটের সমস্যা নেই।
কঠিন গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ তাই প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইতিবাচক ও ভালো পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।
