তিউনিশিয়ার কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে তুরস্কের একটি যাত্রীবাহী বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাটি গত সপ্তাহে ঘটে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিশের উদ্দেশে যাত্রা করা তুর্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট টিকে ৬৬১ তিউনিশের কাছে পৌঁছানোর পর খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে। বিমানের যাত্রী মারিনা মাইস্কায়া ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঝড়ের কারণে বিমানটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল। আতঙ্কিত যাত্রীরা নিজেদের আসন শক্ত করে ধরে ছিলেন। পুরো কেবিনে চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। এক যাত্রীকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মারা যাব।’
মাইস্কায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পাইলট কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনবার অবতরণের চেষ্টা করেন। প্রতিবারই বিমানটিকে ঝড়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তৃতীয়বার অবতরণের সময় বিমানটি নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে যাত্রীরা আশঙ্কা করেন, পাইলট আবারও একই বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করতে পারেন। তখন তারা ঝড়ের মধ্যে ফের পড়ার আশঙ্কায় পাইলটকে অন্য কোনো দেশ বা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন।
যাত্রীদের অনুরোধের পর শেষ পর্যন্ত বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ না করে বিমানটি তিউনিশ থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এনফিধা-হাম্মামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যায়। পরে সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা বিমান থেকে নামতে পারেন। ঘটনার পর মাইস্কায়া পাইলটদের প্রশংসা করেন। তার মতে, তুরস্কের বিমানের পাইলটদের দক্ষতার কারণেই শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
