পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যার ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মোস্তফা প্রামাণিক জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। আটকের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত শিশুর বাবা গতকাল বুধবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
তবে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওসি। তিনি বলেন, তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
শিশু কলির হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেয়। সেখানে ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’ এবং ‘কলি হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তাঁরা ঘটনার দ্রুত বিচার ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়ায় বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে কামরুন্নাহার কলির বস্তাবন্দী ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
