কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ২০৩০ সালের মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে না, যার কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।
সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। হুয়াং এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কাকে ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পূর্বাভাসের পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
হুয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষকে এ ধরনের আশঙ্কা দেখানো দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে এআই নিয়ে অতিরিক্ত ভয় তৈরির সমালোচনা করেন।
এর আগে সাবেক অ্যানথ্রপিক গবেষক জ্যাকব কক্সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, এআই ‘অতিমানবীয়’ পর্যায়ে পৌঁছে চলতি দশকের মধ্যেই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। হুয়াং তাঁর এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কক্সনের বক্তব্যের পাশাপাশি অ্যানথ্রপিকে কাজ করা আরও দুই গবেষকের সমর্থনের পর এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ওপর যথেষ্ট নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারাও এআই কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধী, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী, স্পাইওয়্যার বিক্রেতা, বিজ্ঞানী ও প্রচারকারীরা তাদের শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা তৈরির নকশা, প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরি এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারির চেষ্টা করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্ক এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগকে ‘ভাঁওতা’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এআইয়ের উন্নয়ন ধীর হলে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি সংলাপ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশ এআই প্রযুক্তি থেকে তৈরি সম্ভাব্য জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে একে অপরকে সতর্ক করবে।
ফলে এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, অপব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
