ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির আগে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আসন্ন ম্যাচগুলোর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। মেসির জাতীয় দল থেকে বিদায় ঘিরে সতীর্থদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও বিষণ্নতার কথা।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে নির্ধারিত বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভালেন্তিন বারকো বলেন, তারা সবাই এ ম্যাচের জন্য রোমাঞ্চিত। মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে চান তারা। তার মতে, মেসিকে ছাড়া জাতীয় দলকে কল্পনা করা কঠিন এবং তার বিদায়ের পর বড় একটি শূন্যতা তৈরি হবে।
আগুস্তিন জিয়াইও মেসির সঙ্গে শেষ সময় কাটানোর সম্ভাবনা নিয়ে আবেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি কিছুটা দুঃখের হলেও তারা সময়টি উপভোগ করতে চান। সুযোগ পেলে মেসির সঙ্গে শেষবারের মতো একটি ছবি তুলতে চান বলেও জানান তিনি।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো বলেন, মেসির বিদায় মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রায় ২০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে বিদায় দেওয়া কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দল থেকে নিজের বিদায়ের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।
ফাকুন্দো মেদিনা জানান, মেসির বিদায়ের খবর তার কাছেও ‘বোমার মতো আঘাত’ করেছিল। মেসিকে অনেক আনন্দ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সতীর্থদের তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত এবং তাকে সম্ভাব্য সেরা বিদায় দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
এজেকিয়েল পালাসিওসও মেসির বিদায়ের পর বড় শূন্যতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেসি তাদের অধিনায়ক ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং বিদায়ী সপ্তাহটি তারা উপভোগ করতে চান।
ফ্লাকো লোপেসের মতে, মেসির বিদায়ী ম্যাচ আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সতীর্থ লাওতারো মার্তিনেজ বলেন, এমন একটি দিন আসবে তা তারা জানতেন। খবরটি দুঃখের হলেও মেসি তাদের যে অবদান ও উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন, সেটি তারা সবসময় স্মরণ করবেন।
আলেক্সিস মাক আলিস্তারও মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মেসির মতো আর কেউ আসবে না। মেসির সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা এবং দলের হয়ে তার অবদানের কথা উল্লেখ করে আলিস্তার জানান, তাকে ছাড়া জাতীয় দলের নতুন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সতীর্থরা তাকে মিস করবেন।
আর্জেন্টিনা নিজেদের মাঠে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। প্রথম ম্যাচটি হবে মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে এবং পরের দুটি বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
