যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন জানিয়েছেন। আগের সপ্তাহের জরিপে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ।
চার দিন ধরে পরিচালিত জরিপটি রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। জরিপে ১ হাজার ২৭৭ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন এবং এর ত্রুটির সীমা ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তার প্রতি অনুমোদনের হার কমেছে। এক সপ্তাহ আগে ৮২ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ জরিপে এই হার কমে ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ অনুমোদন করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।
রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতামতের পরিবর্তন দেখা গেছে। জরিপে ৫১ শতাংশ রিপাবলিকান জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তোষ জানিয়েছেন, আর সন্তুষ্টির কথা বলেছেন ৪৪ শতাংশ।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধও ট্রাম্পের জনসমর্থনে প্রভাব ফেলছে বলে জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে। ইরানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন করেছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ জরিপ অংশগ্রহণকারী। অন্যদিকে ৮২ শতাংশ মনে করেন, সংঘাতটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের ৩২ শতাংশ অনুমোদনের হার তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের পুরো মেয়াদের সর্বনিম্ন অনুমোদনকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাইডেনের সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে রেকর্ড করা হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন নীতিতে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থনের মাত্রা ভিন্ন। অভিবাসন নীতিতে ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সব মার্কিন নাগরিককে বিবেচনায় নিলে এ নীতির প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশ এবং বিরোধিতা ৫৫ শতাংশ। অপরাধ দমনে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অনুমোদন জানিয়েছেন ৩৫ শতাংশ মানুষ, বিপরীতে ৫০ শতাংশ অসন্তোষ জানিয়েছেন।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আগামী দুই বছরের জন্য নির্ধারিত হবে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করবেন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের কথা বলেছেন ৩৫ শতাংশ। এ ব্যবধান চলতি বছরের রয়টার্স/ইপসোস জরিপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জাতীয় পর্যায়ের এই জরিপের ফল কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা নির্বাচনী এলাকার ফলাফল নির্দেশ করে না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোতে আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয়। তাই জাতীয় জনমতের ফল সরাসরি প্রতিটি আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরে না।
