নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত ছন্দে আছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। এখন পর্যন্ত লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে আট ম্যাচে ৩৬ গোল করেছে দলটি। এর মধ্যে শুধু লা লিগাতেই এসেছে ৩১ গোল। এই আট ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি বার্সেলোনা।
এই দুর্দান্ত শুরুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল। তাঁদের সঙ্গে গোলের উৎসবে যোগ দিয়েছেন ফেরমিন লোপেজ। তিনজন মিলে এখন পর্যন্ত করেছেন ২৬ গোল। রাফিনিয়ার গোল ১৪টি, ইয়ামালের ৮টি এবং ফেরমিনের ৪টি। গোল করানোর ক্ষেত্রেও তাঁরা কার্যকর—তিনজন মিলে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১১টি গোল।
রাফিনিয়া, ইয়ামাল ও ফেরমিনের এই পারফরম্যান্স বার্সেলোনার সমর্থকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৪-১৭ সময়ের লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমারের ত্রয়ীকে, যেটি ‘এমএসএন’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমান ত্রয়ীকে তাই ‘আরওয়াইএল’ নামে নতুন এক সংস্করণ হিসেবে দেখার আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে চলতি মৌসুমের এখনও অনেকটা পথ বাকি। সামনে রয়েছে অনেক ম্যাচ ও চ্যালেঞ্জ। ফলে সময়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যান ও দলের পারফরম্যান্স বদলে যেতে পারে।
বার্সেলোনার এই ত্রয়ীর ২৬ গোলের বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম মিলে করেছেন ১২ গোল। এমবাপ্পের গোল ৮টি, বেলিংহামের ৩টি এবং ভিনিসিয়ুসের ১টি। অর্থাৎ দুই দলের এই তিন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যার ব্যবধান এখন ১৪।
ইউরোপের আরও কয়েকটি বড় ক্লাবের আক্রমণভাগের তুলনাতেও বার্সেলোনার ত্রয়ীর গোলসংখ্যা বেশি। ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড, রায়ান শেরকি ও আন্তোয়ান সেমেনিও মিলে করেছেন ১২ গোল। বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে, হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালা করেছেন ১২ গোল। আর পিএসজির উসমান দেম্বেলে, ফেরান তোরেস ও ভিতিনিয়া মিলে করেছেন ১০ গোল।
বার্সেলোনার এই আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সে রাফিনিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর ফলস নাইন পজিশনে তাঁকে খেলিয়ে সাফল্য পেয়েছেন কোচ হান্স ফ্লিক। মৌসুমের প্রথম মাসেই রাফিনিয়া দুটি হ্যাটট্রিক ও তিনটি জোড়া গোল করেছেন।
অন্যদিকে ইয়ামালের ৮ গোলের সঙ্গে আছে ৬টি অ্যাসিস্ট। ফেরমিনও আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই তিন খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
