এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার পর প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরানের একটি মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। ওই মন্তব্যের বিষয়ে কোচকে ব্যাখ্যা দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে কোনো পদক ছাড়াই ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ম্যাচ শেষে সারওয়ার ইমরান বলেন, দল যখন একটি টুর্নামেন্ট খেলছে, তখন প্রধান কোচ ও অধিনায়ককে ‘সাইজ’ করে কীভাবে ভালো ফল আশা করা যায়।
ইমরানের ওই মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি রফিকুল। তাঁর মতে, কোনো দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হলে কোচ ও অধিনায়ককে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
রফিকুল বলেন, ফুটবল বা ক্রিকেট—যে খেলাই হোক, কোনো দল প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে কোচ ও অধিনায়কের ওপর দায় আসে। বড় টুর্নামেন্টে খারাপ ফলের পর কোচ পরিবর্তন বা অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনাও নতুন নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের আগেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জানিয়ে বিসিবিতে ই-মেইল করেছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রফিকুল জানিয়েছিলেন, জ্যোতির এমন সিদ্ধান্তে তিনি বিব্রত হয়েছেন।
এশিয়ান গেমস চলাকালেই কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান। তিনি জানিয়েছিলেন, সারওয়ার ইমরানের চুক্তির মেয়াদ অক্টোবরে শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হবে না। তাঁর জায়গায় সাবেক বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্পকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান রফিকুল। ব্যাটিং কোচ নাসিরউদ্দিন ফারুকের অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস দিয়েছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। তবে এরপর নারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা।
সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে রফিকুল প্রশ্ন তুলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করা দলটি নারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে খেলেছে কি না। দলের স্বার্থে টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
