কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টিতে প্রায় ২৮ লাখ টাকা কেজি দামের ‘চারাপিতা’ মরিচ চাষ করছেন শহীদমাতা কাজী শারমিন আক্তার। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও বিলাসী মরিচ হিসেবে পরিচিত এই মরিচের গাছে ফলন আসার পর তা দেখতে স্থানীয়দের আগ্রহও বেড়েছে।
জুলাই শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন নিজের বাড়িতেই এ মরিচের চাষ করছেন। সম্প্রতি ফলনসহ মরিচগাছের ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গাছ ও মরিচ দেখতে দর্শনার্থীরা তার বাড়িতে ভিড় করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারাও তাকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
চারাপিতা মরিচ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে চাষ করা হয়। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ থাকে এবং পাকলে হলুদ বা উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে। দেখতে গোলাকার এ মরিচ খুব বেশি ঝাল নয়। তবে এর রয়েছে বিশেষ ধরনের সুগন্ধ, যা খাবারের স্বাদ ও আকর্ষণ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।
সোর্স অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও মক্কার দামি হোটেলের খাবার তৈরিতে এ মরিচ ব্যবহার করা হয়। দুবাইসহ অন্যান্য আরব দেশেও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের রাজকীয় খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে চারাপিতা মরিচ ব্যবহৃত হয়।
কাজী শারমিনের বাড়িতে একটি ছোট সবজির মাচার পাশে ছয়টি বালতিতে চারাপিতা মরিচের গাছ লাগানো হয়েছে। যত্ন ও পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফলন এসেছে। মরিচগাছ ও মরিচের বিশেষ ঘ্রাণও আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম জানান, দেশে সম্ভবত তিনিই প্রথম চারাপিতা মরিচের চাষ শুরু করেন। ২০২২ সালে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে তিনি এ মরিচের চাষ শুরু করেন এবং আমেরিকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন।
তিনি বলেন, চারাপিতা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ এবং প্রতি কেজির দাম প্রায় ২৬ হাজার ডলার। দেশে এর বাজার তৈরি করা গেলে কৃষকরা ভালো আয় করতে পারবেন।
কাজী শারমিন আক্তার জানান, আমেরিকায় বসবাসকারী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি পাকা চারাপিতা মরিচ সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে ছয়টি চারা তৈরি হয়েছে। একটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ থাকে বলে জানান তিনি। তার গাছে বর্তমানে প্রচুর মরিচ ধরেছে এবং তিনি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করছেন।
তার বোনও রানীর দিঘিরপাড়ের বাসায় চারাপিতা মরিচ চাষ করেছেন বলে জানান কাজী শারমিন। তার মতে, আরব দেশগুলোতে এ মরিচের চাহিদা রয়েছে। সেখানে বাজার তৈরি করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জামাল উদ্দিন বলেন, চারাপিতা মূলত পেরুতে চাষ করা হয়। এটি অত্যন্ত দামি ও দুর্লভ একটি ফল এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও এটিকে দুর্লভ মরিচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া চারাপিতা মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত কিনা, তা জানতে গবেষণা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
