উত্তর ইরাকে অবস্থিত বাশিকা সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ক্রমে ইরাকের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিনজার অঞ্চলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি বন্ধে দুই দেশ একমত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সিনজার পার্বত্য এলাকায় অবস্থান নেওয়া কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর বিরুদ্ধে দুই দেশের যৌথ অবস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ নামে যৌথ কৌশলগত প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
বাশিকা ঘাঁটি নিয়ে তুরস্ক ও ইরাকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য ছিল। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইএসআইএসবিরোধী স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মোসুলের উত্তর-পূর্বে বাশিকায় প্রায় ৬০০ সেনা নিয়ে ঘাঁটিটি স্থাপন করে তুরস্ক। এরপর থেকেই বাগদাদ ঘাঁটিটির উপস্থিতিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করে আসছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে আঙ্কারা ও পিকেকের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর পর আন্তঃসীমান্ত হামলা কমে আসে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় ইরাকি সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ আরও সহজ হয়।
নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক বৈঠকে ঘাঁটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বাণিজ্যপথ সহজ করার বিষয়েও দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
