মরক্কোয় প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি।
রাজপ্রাসাদ থেকে মঙ্গলবার ফাতিমা মানসুরিকে নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা আসে। ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা এর আগে দেশটির নগর-পরিকল্পনামন্ত্রী এবং মারাকেশ শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিজের নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন ফাতিমা মানসুরি। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। তিনি এটিকে নিজের পাশাপাশি দেশটির নারীদের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
মরক্কোয় গত সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ঘোষণার চার দিন পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হলো।
ফাতিমা মানসুরি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টির (পিএএম) রাজনীতিবিদ। নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৩৯৫টি আসনের মধ্যে পিএএম জয় পেয়েছে ৯৭টিতে।
তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনে পিএএমকে জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমার সামনে এটিই প্রথম বড় কাজ।
২০০৮ সালে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের বন্ধু ফুয়াদ আলী আল হিম্মা পিএএম প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি সব দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তবে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি), ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফটসহ কয়েকটি দল ইতিমধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন সরকারকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা নির্ধারণ করবে ক্ষমতাসীন জোট। মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।
ফাতিমা মানসুরি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নাজলা বুদেন।
