মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাঁ পায়ের অস্বাভাবিক ভঙ্গি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার বাঁ পা কিছুটা ঢিলে এবং হাঁটু ভেতরের দিকে বাঁকানো ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্ট বুধবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের সহযোগী মার্গো মার্টিনের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তার এমন ভঙ্গি দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী ট্রাম্পের এমন ভঙ্গির কারণ জানতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের মতামত চেয়েছেন। আরেকজন দাবি করেন, ট্রাম্পের এক পায়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্রেস থাকতে পারে। তবে এসব মন্তব্যের বিষয়ে কোনো চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ট্রাম্পের হাঁটার ধরন নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইরিশ স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বাঁ পা সামনে বাড়িয়ে হাঁটছিলেন এবং তাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি টলমলে দেখা যায়।
গত বছরের আগস্টেও ভার্জিনিয়ার ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে গলফ খেলার সময় তার হাঁটার ধরন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় সাবেক মেজর লিগ বেসবল খেলোয়াড় রজার ক্লেমেন্স ও তার ছেলে কেসির সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্প। একটি ভিডিওতে তাকে ডান পা পেছনে টেনে এবং ধীরগতিতে হাঁটতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সোমবার ওভাল অফিসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে রেজল্যুট ডেস্কের পেছনে ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে পূর্ব আইওয়ায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ইস্পাত কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ট্রাম্পের হাতের কালশিটে দাগ, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথাবার্তায় ভুল এবং গোড়ালি ফুলে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বছরের শুরুতে ৩০ জনের বেশি চিকিৎসক একটি চিঠিতে ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। চিঠিতে তারা তার দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের বাঁ পায়ের অবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে ডেইলি বিস্ট হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী জবাব দেওয়া হয়েছে, তা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
