সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল থেকে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
দুপুরের দিকে সেখানে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে কয়েকজন কর্মচারীকে হাসপাতালের কনফারেন্স হলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক কর্মচারীকে পুলিশ আটক করে। পরে তিনি ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পা ধরে ক্ষমা চান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ওই কর্মচারী ক্ষমা চাওয়ার সময় কয়েকজন বহিরাগত তাকে মারধর করেন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর লিফটের সামনেও তাকে মারধর করা হয়। কর্মচারীদের দাবি, হামলাকারীরা বিএনপির নেতাকর্মী ছিলেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী আহমদ আলী বলেন, তিনি ভুল করার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু বের হওয়ার সময় পেছন থেকে একদল লোক তাদের ওপর হামলা করে এবং মারধর করে। তার দাবি, এ ঘটনায় নারীসহ প্রায় ১০ জন কর্মচারী আহত হয়েছেন।
এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের ভেতরে আটকা ছিলেন। বিকেল ৩টার পর তিনি বের হওয়ার সময় আবারও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের কয়েকজন বহিরাগত মারধর করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এতে বিএনপির কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং কর্মচারীরাও আন্দোলন স্থগিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় কর্মচারীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছিলেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেতন বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীরা আন্দোলন করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
