বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার কবে পুরোপুরি খুলবে—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন হাজারো চাকরিপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা থাকলেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।
চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লেবার মার্কেট কনফারেন্সের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা এবং ওমানের শ্রমমন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের জন্য স্থগিত থাকা নতুন ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।
কেন বন্ধ ছিল ওমানের ভিসা?
২০২৩ সালে ওমান সরকার অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক ভিসা স্থগিত করে। দেশটিতে অবস্থানরত অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশ থেকেও নতুন কর্মী নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
কবে খুলতে পারে?
এখন পর্যন্ত ওমান সরকার নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেন যে, দুই মাসের মধ্যে ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যদিও জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। তাই ভিসা পুরোপুরি চালুর বিষয়টি এখনো সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
কোন খাতে কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনা?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নির্মাণ, পরিষেবা, উৎপাদন, কৃষি এবং বিভিন্ন কারিগরি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। দক্ষ কর্মীদের নিয়োগে ওমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দক্ষতা-ভিত্তিক কর্মী পাঠানোর ওপর দুই দেশই জোর দিচ্ছে।
আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা
ভিসা চালুর গুজবকে কেন্দ্র করে অনেক অসাধু দালাল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবেদন করার আগে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
ওমান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। নতুন করে ওয়ার্ক ভিসা চালু হলে হাজারো বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টরা। সরকারও আগামী অর্থবছরে আরও বেশি সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে ওমানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।
