দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা নিয়ে আবারও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা জোরদার হয়েছে। দুই দেশের সরকারই স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। আলোচনায় কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
কেন বন্ধ হয়েছিল কলিং ভিসা?
২০২৪ সালে বিভিন্ন অনিয়ম, অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয়, দালালচক্রের প্রভাব এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ কার্যত স্থগিত করে। এর ফলে হাজারো বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হারান এবং অনেকের ভিসা প্রক্রিয়াও আটকে যায়।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য একাধিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়া এমন একটি নিয়োগ ব্যবস্থা চায়, যেখানে কর্মী নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, ডিজিটাল এবং নিয়ন্ত্রিত। একই সঙ্গে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানানো হয়েছে।
কারা অগ্রাধিকার পেতে পারেন?
সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ, বাগান, কৃষি এবং সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী পূর্বে অনুমোদিত হয়েও বিভিন্ন কারণে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি, তাদের বিষয়েও আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ
শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ালেও এখনো সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই আগ্রহী প্রার্থীদের শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গন্তব্য। শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হলে হাজার হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, কম খরচ এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
