ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজের মেনুতে মাছ-মাংস না থাকায় ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বিশ্বের ওপর নিরামিষভোজ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজনকে খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্কে তুচ্ছ করা হচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। মেনুতে ১০টির বেশি পদ ছিল। শুরুতে ছিল খুম্ব গালাউটি এবং মিষ্টির তালিকায় ছিল শাহদূত ফিরনি ও জিলাপির সঙ্গে ফ্রুট ক্রিম। মূল খাবারে ছিল পনির, মাশরুম, মিলেট পোলাও ও বিটরুট রায়তাসহ বিভিন্ন পদ।কংগ্রেসের সমালোচনা
নৈশভোজের মেনু নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমালোচনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী এবং ভারতীয় আমিষ খাবারও সুস্বাদু।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, দেশের মানুষের ওপর নিজেদের পছন্দের খাবার চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে।
ওয়ারিস পাঠানও মেনু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের বৈচিত্র্যের কথা বলা হলেও নৈশভোজের মেনুতে সেই খাদ্যবৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, নিরামিষ খাবার প্রচার করা যেতে পারে, তবে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের খাবারের পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরার সুযোগ ছিল। তাঁর মতে, মাটন, চিকেন ও মাছও ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে বিজেপি বলেছে, নীতিগত ফলাফল নিয়ে আলোচনা না করে খাবারের বিষয়কে সামনে এনে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাকে তুচ্ছ করে দেখছে।
দলটির দাবি, বিরোধীরা ব্রিকস সম্মেলনের সিদ্ধান্ত, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ কিংবা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বৈশ্বিক বিষয়ে ভারতের প্রভাবশালী অবস্থান নিয়ে কংগ্রেস ‘অসন্তুষ্ট’ বলেও অভিযোগ করেছে বিজেপি।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, সম্মেলনের সমালোচনা করার মতো বিরোধীদের কাছে যদি খাবারের মেনু ছাড়া আর কোনো বিষয় না থাকে, তাহলে সেটিকে ব্রিকসের সফলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়।
দলের আরেক জাতীয় মুখপাত্র তুহিন সিনহাও রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রকাশ করে।নৈশভোজের মেনুতে কী ছিল
নৈশভোজের শুরুতে পরিবেশন করা হয় ‘খান্ডভি মিলেট’ ও ‘খুম্ব গালাউটি’। মূল খাবারের মধ্যে ছিল ‘পনির লাবাবদার’, ‘গুচ্ছি মারমিক’, ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’, ‘থাক্কালি বেলে সারু’, মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।
মিষ্টির তালিকায় ছিল ‘ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উইথ জিলাপি’ এবং ‘শাহদুত ফিরনি’।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও বিতর্ক চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
