জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি; নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও নগর এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে দেশের দক্ষিণ, উত্তর-পূর্ব এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি থাকবে। কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি এবং কিছু এলাকায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নগরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নদীবন্দর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি সড়ক যোগাযোগ, নৌযান চলাচল এবং কৃষি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিবৃষ্টির কারণে শহরাঞ্চলে যানজট ও জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ছোট নৌযান এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা বেড়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে।
বিশেষ করে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, জলাবদ্ধতাপ্রবণ নগর অঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী বসতিগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দেশের ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং ১৯ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং আবহাওয়ার নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
