উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতের আদেশ
ঢাকা: রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগে বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে রাশেদ খান মেননকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই একটি নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয় এবং সেখানে শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করেও কিছু প্রার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত একজন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কয়েকজনের নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করে। মামলায় রাশেদ খান মেননসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির কয়েকজন সাবেক সদস্য এবং নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শিক্ষক।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
