‘জেমিনি ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ ব্যবহারকারীর সহকারী হয়ে সম্পন্ন করবে নানা কাজ
ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধানের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে গুগল তাদের সার্চ প্ল্যাটফর্মে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এজেন্ট যুক্ত করেছে। ‘জেমিনি ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ নামের এই নতুন প্রযুক্তি শুধু তথ্য খুঁজে দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর মতো বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সার্চ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি আয়োজিত গুগলের বার্ষিক প্রযুক্তি সম্মেলনে নতুন এআই এজেন্টটির সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি মানুষের ভাষা ও উদ্দেশ্য আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ও প্রাসঙ্গিক উত্তর প্রদান করবে।
নতুন এআই এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শুধু লিখে নয়, ছবি, ভিডিও, পিডিএফ ডকুমেন্ট কিংবা ব্রাউজারের খোলা ট্যাব ব্যবহার করেও তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবেন। এজেন্টটি আগের প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতা মনে রেখে পরবর্তী উত্তর আরও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করবে।
ফলে ব্যবহারকারীদের বারবার একই তথ্য বা প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন কমে যাবে এবং সার্চ হবে আরও স্বাভাবিক ও কথোপকথনভিত্তিক।
গুগল জানিয়েছে, নতুন এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজেও সহায়তা করতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে বাসা খোঁজার ক্ষেত্রে এটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে নতুন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং নতুন কোনো বিজ্ঞাপন প্রকাশ হলে তা ব্যবহারকারীকে জানাতে সক্ষম হবে।
এ ছাড়া সেলুন, চিকিৎসাসেবা, গৃহস্থালি মেরামত কিংবা পোষা প্রাণীর পরিচর্যার মতো বিভিন্ন সেবার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের কাজও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।
বিশ্লেষণধর্মী বা জটিল তথ্য বোঝাতে এআই এজেন্ট চার্ট, গ্রাফ ও ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড তৈরি করতে পারবে। এতে বড় আকারের তথ্য দ্রুত বোঝা সহজ হবে।
একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল, ক্যালেন্ডার ও ফটোসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট ইমেইল, ছবি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খুঁজে বের করতে পারবে এই প্রযুক্তি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এজেন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় সাশ্রয়। আগে একটি নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য একাধিক ওয়েবসাইট ঘাঁটতে হতো। এখন এআই নিজেই বিভিন্ন উৎস বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করবে।
এছাড়া পণ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ, ভ্রমণ পরিকল্পনা, গবেষণা সহায়তা এবং প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধানেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সার্চ ইঞ্জিনগুলো নতুনভাবে বিকশিত হচ্ছে। বিশেষ করে চ্যাটবট ও এআই সহকারীর জনপ্রিয়তা বাড়ার পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সার্চকে আরও বুদ্ধিমান ও স্বয়ংক্রিয় করার দিকে জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে সার্চ ইঞ্জিন কেবল তথ্য প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজ সম্পন্ন করার সক্ষম ডিজিটাল সহকারী হিসেবে কাজ করবে।
গুগলের নতুন এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তথ্য অনুসন্ধানকে আরও দ্রুত, সহজ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে চালু হলেও ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে। প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে।
