খসড়া তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে নতুন ভোটার নিবন্ধন
ঢাকা: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা আগামী ৯ আগস্ট প্রকাশ করা হবে এবং সকল আপত্তি ও সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩১ আগস্ট।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং নিবন্ধন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভোটার তালিকা আইনের বিধান অনুযায়ী ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের ভিত্তি তারিখ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০০৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসমক্ষে প্রচারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক হাজার ২৪৩ জন।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি) কাছে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নির্বাচনী তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ, শপথ গ্রহণ, প্রথম সভা, মেয়াদোত্তীর্ণের সময় এবং নির্বাচনের উপযোগী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এসব তথ্য কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কোনো জটিলতা, বিচারাধীন মামলা বা আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য দিতে হবে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে কমিশন।
বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
