নামের বানান অসঙ্গতি ও বাংলা সনদের কারণে আটকে আছে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন
বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হালনাগাদ এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। নামের বানান ভুল, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের অসঙ্গতি এবং বাংলা ভাষায় সনদ থাকার কারণে যেসব আবেদন নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না, সেগুলো দ্রুত সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার জারি করা এক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিয়মিতভাবে অধিদপ্তরে জমা পড়ছে। তবে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে একাধিক ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
অধিদপ্তরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক আবেদনকারীর দাখিল বা এসএসসি সনদে থাকা নামের বানানের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত নামের মিল নেই। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ ও এনআইডি—উভয় নথিতেই বানানগত ভুল রয়েছে।
আরও দেখা গেছে, অনেক আবেদনকারীর দাখিল বা এসএসসি সনদ বাংলা ভাষায় হওয়ায় প্রয়োজনীয় যাচাই ও তথ্যসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, সরকারি নথিপত্রে তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে জন্মতারিখ সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবেদন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ কারণে আবেদনকারীদের প্রথমে সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা ভুল তথ্য সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় থাকা দাখিল বা এসএসসি সনদ ইংরেজিতে রূপান্তর বা ইংরেজি সংস্করণ সংগ্রহ করে পুনরায় আবেদন জমা দিতে হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে পদোন্নতি, এমপিও কার্যক্রম, পেনশন, অবসর সুবিধা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে জটিলতা কমে আসবে।
এছাড়া ডিজিটাল তথ্যভান্ডার হালনাগাদ এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিক্ষক ও কর্মচারীর তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে, তাদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য সংশোধন করতে হবে।
এরপর সংশোধিত নথিপত্র সংযুক্ত করে পুনরায় আবেদন করলে জন্মতারিখ সংশোধনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের তথ্যভিত্তিক প্রশাসনিক সেবা আরও কার্যকর করতে সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন করলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা গ্রহণও সহজ হবে।
