ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সভায় সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসকদের কাছ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন মীর শাহে আলম। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের ফলে মাঠপর্যায়ে নতুন কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এর আওতায় দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনসহ সম্ভাব্য প্রজননস্থলে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সভায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম এবং ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।
