পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম রোববার কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন কাফির বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুন।
আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা একটি ভেকুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বিদ্যালয়ের জমিতে প্রবেশ করেন। তারা জমির মাটি কেটে এর আকার পরিবর্তনের পাশাপাশি সেখানে একটি চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধার মুখে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় শিক্ষকদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে এক লাখ টাকারও বেশি মূল্যের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিটি ভোগদখল করে আসছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায় পেয়েছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেছেন।
কাফি বলেন, মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কোনো সাক্ষাৎ বা কথোপকথন হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।
বর্তমানে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
