ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, নিট (NEET) পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগকে ঘিরে অনেকে গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কমল হাসান, প্রকাশ রাজ, বিজয় ভার্মা, জোয়া আখতার, অদিতি রাও হায়দারিসহ বলিউডের বিভিন্ন তারকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হাততালি, হাসিমুখ ও হৃদয়ের প্রতীকযুক্ত ইমোজি ব্যবহার করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর শেয়ার করেন। পরে সাংবাদিক ফে ডি’সুজার একটি পোস্টেও তিনি একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান। ওই পোস্টে অভিনেতা ঈশান খাট্টার, মালাইকা অরোরা ও টিনা দত্তও নিজেদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকার ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে এ পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
অভিনেতা কমল হাসান এক্সে লিখেছেন, “সংঘাতের জায়গায় সংলাপ ফিরে আসতে দেখে ভালো লাগছে। ভিন্নমতকে দমিয়ে রাখা নয়, তার সঙ্গে সংলাপ হওয়াই গণতন্ত্রের পথ। মহাত্মা গান্ধীর দেশে পেলেট গান, বৈদ্যুতিক শক ব্যাটন কিংবা পেরেক লাগানো লাঠির কোনো স্থান নেই। একইভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। জবাবদিহিতা কখনোই বেছে বেছে হওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও লেখেন, “সরকার আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে, এটি ইতিবাচক। এখন নিশ্চিত করতে হবে, এই সংলাপ যেন দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পথ তৈরি করে। সামনে পথ অনেক দীর্ঘ, তবে ভারতীয়দের সেই পথ একসঙ্গেই চলতে হবে।”
পরিচালক জোয়া আখতার নতুন প্রজন্মের প্রশংসা করে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, জেন-জেড প্রজন্ম কী করতে পারে।” একই সঙ্গে তিনি একটি উদ্ধৃতি শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয়, ‘গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ক্ষমতার মালিক জনগণ।’
অভিনেতা প্রকাশ রাজ এক্সে লিখেছেন, “অভিনন্দন আমার প্রিয় ককরোচরা। প্রিয় সোনম ওয়াংচুক স্যার এবং তরুণদের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেককে অভিনন্দন। আপনারা প্রমাণ করেছেন, ঐক্যবদ্ধ মানুষ চাইলে ক্ষমতাসীনদেরও নতি স্বীকার করাতে পারে।”
উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন শেষে প্রকাশ রাজ তাঁর ত্যাগের প্রশংসা করেছিলেন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে বিলম্ব হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
অভিনেতা বিজয় ভার্মা ইনস্টাগ্রামে ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “আচ্ছা চলতা হুঁ… দোয়াওঁ মে ইয়াদ রাখনা।” জনপ্রিয় গানের এই লাইন ব্যবহার করে তিনি পরোক্ষভাবে বিদায়বার্তা দিয়েছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
পোস্টটির মন্তব্যে অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ ও আহনা কুমরা একাধিক হাসির ইমোজি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে কয়েকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘ধর্মেন্দ্র, খেলা শেষ বন্ধু!’ এবং ‘আমরাই জিতেছি, বন্ধুরা।’
অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, “জয় হোক জেন-জেডের। সততা, মর্যাদা, অহিংসা, জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রজ্ঞার শক্তি আরো বাড়ুক। ভয়, বিভাজন আর ঘৃণার চেয়ে এসব মূল্যবোধই সবসময় জোরালো হোক।”
অভিনেতা মানভ কৌল তরুণদের উদ্দেশে লেখেন, “আমি তোমাদের ভালোবাসি। এই দেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের। এখন সবকিছুই তোমাদের হাতে। এগিয়ে যাও। জয় হিন্দ।”
কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা বীর দাস শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, “তোমরা সেই ছোট্ট একটি শব্দ ফিরিয়ে এনেছ, যা আমরা সবাই স্কুলে পড়েছিলাম কিন্তু পরে ভুলে গিয়েছিলাম। অসাধারণ তোমরা। সামনে যা-ই ঘটুক, আজকের জয় তোমাদের। এখন উদযাপন করো।”
আন্দোলনস্থল থেকে সিজেপির অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমরা পেরেছি। আমরা সফল হয়েছি। পৃথিবী নত হয়, যদি নত করানোর মতো মানুষ থাকে।”
এর আগে প্রবীণ অভিনেতা শাবানা আজমি ও নাসিরুদ্দিন শাহও দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
