চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাবার গাছের সারিতে ঘেরা একটি সড়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেলফি রোড’ নামে পরিচিতি পাওয়ার পর দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়। সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ, হাঁটাহাঁটি এবং আলোকচিত্র ধারণ করতে সেখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের অংশ এবং সরকারি মালিকানাধীন দাঁতমারা রাবার এস্টেটের ভেতরে অবস্থিত এই সড়কটি সম্প্রতি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। রাবার গাছের সবুজ ছাউনিতে ঢাকা পথটিতে এসে অনেকেই ছবি তোলার পাশাপাশি নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করে সময় কাটাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে ঘুরতে আসা ৩৩ বছর বয়সী জোবায়ের হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে তিনি এ স্থানের কথা জানতে পারেন। শুরুতে ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই এলেও বাস্তবে এসে জায়গাটির শান্ত পরিবেশ, শীতল বাতাস ও সবুজ প্রকৃতি তাঁকে বেশি আকৃষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, “ছবিতে জায়গাটি সুন্দর লাগত। কিন্তু এখানে এসে যে নীরবতা, শীতল বাতাস আর সবুজ পরিবেশ পাওয়া যায়, সেটিই আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।”
রাউজান থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, “আমরা মূলত ছবি তোলার পরিকল্পনা করেই এসেছিলাম। তবে এখানে এসে ছবি তোলার চেয়ে বেশি সময় হেঁটেই কাটিয়েছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও বাইরের মানুষের আনাগোনা ছিল খুবই সীমিত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানটির পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সড়কের প্রবেশমুখে চায়ের দোকান পরিচালনা করা আলমগীর হোসেন বলেন, “আগে খুব কম মানুষ এখানে আসতেন। এখন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দর্শনার্থী আসেন। ছুটির দিনে ভিড় আরও বেড়ে যায়।”
পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতির ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। চায়ের দোকান, হালকা খাবারের স্টল ও সড়কের পাশের ছোট ছোট ব্যবসাগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ এখন পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল।
ভ্রমণ শেষে জোবায়ের হোসেন বলেন, “আমি ভেবেছিলাম শুধু ছবি তুলতেই এখানে আসছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, মানুষ আসলে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটানোর জন্যই এখানে আসে।”
