বগুড়ার লাফাপাড়া গ্রামের একটি শতবর্ষী তেঁতুলগাছ বহু বছর ধরে বক ও পানকৌড়ির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। গাছটিকে কেন্দ্র করে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো পাখির কোলাহলে মুখর থাকে পুরো এলাকা, আর সেই কারণেই গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি গ্রাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন তেঁতুলগাছটি বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য বক ও পানকৌড়ির আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মৌসুমজুড়ে গাছটির ডালপালায় সারি সারি বাসা দেখা যায়। প্রতিদিন পাখিরা খাবারের সন্ধানে দূরে উড়ে গেলেও আবার সন্ধ্যায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এই গাছেই ফিরে আসে।
গাছটির চারপাশে দিনের বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় নানা দৃশ্য। কখনো ডালে বসে ডাকছে বক, আবার কখনো পানকৌড়ি ঠোঁটে খড়কুটো নিয়ে বাসা নির্মাণে ব্যস্ত। কোথাও উড়াল দেওয়ার অপেক্ষায় বড় বক, আবার একই ডালে নিশ্চিন্তে পাশাপাশি বিশ্রাম নিচ্ছে বক ও পানকৌড়ি।
বাসা তৈরির সময় নীল আকাশ চিরে পানকৌড়িদের খড়কুটো বহন করে গাছে ফিরে আসার দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। গাছজুড়ে শত শত বাসা এবং অবিরাম পাখির আনাগোনায় এলাকাটি এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু প্রজন্ম ধরে এই তেঁতুলগাছ পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মানুষের সচেতনতা এবং গাছটির প্রতি যত্নের কারণেই এখনো নির্বিঘ্নে সেখানে বসবাস করছে হাজারো পাখি।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এমন অনন্য সহাবস্থান শুধু স্থানীয়দেরই নয়, দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে। ফলে বগুড়ার লাফাপাড়া গ্রাম ধীরে ধীরে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি পরিচিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
