তারকাসন্তান হিসেবে পরিচিতি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে নিজের যোগ্যতাই সবচেয়ে বড় শক্তি—এমন বিশ্বাসের কথাই জানিয়েছেন বলিউডের তরুণ অভিনেত্রী পলক তিওয়ারি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার, মা শ্বেতা তিওয়ারির প্রভাব, ব্যক্তিগত স্বপ্ন এবং অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
‘বিজলি বিজলি’ গানের মাধ্যমে আলোচনায় আসা পলক তিওয়ারি পরে সালমান খানের সঙ্গে কিসি কা ভাই কিসি কি জান এবং দ্য ভূতনি ছবিতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি ওয়েব সিরিজ লুকখে-তে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সাক্ষাৎকারে পলক বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন মাকে ঘিরেই। তিনি বলেন, “আমি কখনো টাকার অভাব বোধ করিনি। আমি জন্মানোর আগেই মা প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হয়ে গিয়েছিলেন। তাই কোনো কিছুর অভাব নিয়ে বড় হইনি। কিন্তু মা যেহেতু মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তাই আজও টাকা খরচের আগে দুবার ভাবেন। আমি এত আয় করতে চাই, যেন ওনাকে কোনো দিন খরচের হিসাব করতে না হয়।”
মায়ের জীবনযাপন ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, শ্বেতা তিওয়ারি নিজের জন্য খুব কমই খরচ করেন। বরং সব সময় সন্তানদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন। এ প্রসঙ্গে পলকের ভাষ্য, “মা নিজের জন্য কখনো দামি কিছু কেনেন না। সব সময় ভাবেন, সেই টাকা আমার আর ভাই রেয়াংশের জন্য খরচ করবেন। আমার ইচ্ছা, আমি এতটাই সফল হই, যেন টাকাপয়সা ওনার কাছে হাতের ময়লার মতো মনে হয়। উনি যা ইচ্ছা, সেটাই কিনতে পারেন।”
পলকের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মায়ের ব্যক্তিত্ব, ধৈর্য ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার অনেক দিক নিজের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছেন। আশপাশের মানুষও তাঁকে প্রায়ই এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি চাই, যতটা সম্ভব মায়ের মতো মানুষ হতে।”
বর্তমানে লুকখে ওয়েব সিরিজে এক আবেগপ্রবণ বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন পলক। বাস্তব জীবনেও ছোট ভাই রেয়াংশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিক। তবে মজার ছলে তিনি বলেন, পরিবারের সবচেয়ে আদরের সন্তান রেয়াংশই, আর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও অনেক সময় মা উল্টো তাকেই দায়ী করেন।
অভিনয়জীবন নিয়ে পলকের অবস্থানও স্পষ্ট। তাঁর মতে, শুধু তারকার সন্তান হওয়ার কারণে কেউ দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে টিকে থাকতে পারেন না। দর্শক শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের মানই বিচার করেন। তাই বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
বলিউডে যাত্রার শুরুতেই সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে পলক বলেন, “সালমান স্যারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ অবশ্যই বড় পাওয়া। কিন্তু শুধু ভাগ্য দিয়ে কিছু হয় না। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হয়।”
তারকার সন্তান হওয়ায় সুযোগ পাওয়া সহজ—এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। পলকের দাবি, প্রতিটি চরিত্রের জন্য তাঁকেও নিয়মিত অডিশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং নিজের যোগ্যতাতেই সুযোগ অর্জন করতে হয়। তাঁর ভাষায়, “একজন শিল্পীর পরিচয় তৈরি হয় দর্শকের ভালোবাসা দিয়ে, পরিবারের পরিচয়ে নয়।”
মায়ের কাছ থেকেই অভিনয়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। লুকখে সিরিজে তাঁর ‘সানোবে’ চরিত্রটি নির্মাণের সময় শ্বেতা তিওয়ারির জনপ্রিয় ‘প্রেরণা’ চরিত্র থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সানোবে চরিত্রটি যেন মায়ের প্রেরণা চরিত্রের প্রতি আমার ভালোবাসার উপহার।”
পলকের বিশ্বাস, সাফল্যের চেয়ে শেখার প্রক্রিয়াই একজন শিল্পীকে পরিণত করে। তাই প্রতিটি নতুন কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে চান তিনি। তাঁর কাছে প্রকৃত সাফল্য হলো এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো, যেখানে মায়ের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ থাকবে না।
