ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া সফল না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপে ফিরে যাবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স–এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয়, কিছু একটা ঘটার ভালো সম্ভাবনা আছে। আর তা না হলে, আমরা দুদিন আগে যা করছিলাম, সেখানেই ফিরে যাব।”
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং তেহরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেকে সরে আসেনি। তবে ইরান আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে—এমন খবরকে তিনি “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন।
এর আগে ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
সংঘাতের পটভূমিতে জানা যায়, জুলাইয়ের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দায়ী করা হয়। এরপর ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে ইরান। টানা ১৩ রাত অভিযান ও পাল্টা অভিযানের পর গত ২৫ জুলাই সেন্টকম সামরিক অভিযান স্থগিত করে। এরপর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ রেখেছে।
সম্প্রতি ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তেহরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বন্ধ রাখলে ইরানও তাদের অভিযান স্থগিত রাখবে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান স্থগিত রাখার কারণ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
