স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো শক্তির বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। তবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে সরকার নয়। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের বিচার বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত এবং দলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কোনো শক্তির এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত। তবে আমরা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা চাই না। তাদেরকে রাজনৈতিক দল হিসাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতই নির্ধারণ করবে এই আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কোনো এক দিনের ঘটনা ছিল না; বরং দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিক ফল।
তিনি বলেন, “জুলাই ৩৬ কি এমনিতেই হয়েছে? জুলাই দীর্ঘদিনের এক একদিনের বিন্দু বিন্দু জমে আমাদের এই সিন্ধু হয়েছে। এই জুলাই ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিএনপির ছাত্রদল, যুবদল এবং অন্যান্য বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল কর্মীর আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে। যখন কোনো আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালনার সুযোগ থাকে না, তখন রক্তক্ষয়ী আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, “একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি ‘জুলাই কার’, তাহলে জুলাই আমাদের কারও থাকবে না। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক আলোচনা ও সংস্কার কমিশনের কাজের পাশাপাশি সংসদে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী পাস করা প্রয়োজন, যা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি জানান, সরকার এমন একটি সংবিধান সংশোধন চায়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গণভোটে পাওয়া জনসমর্থনের আলোকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
