থাইল্যান্ডে বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। নির্মাণ, কৃষি ও হালাল ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন খাতে জনশক্তির ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে কর্মী নিয়োগের জন্য পঞ্চম দেশ হিসেবে যুক্ত করতে চায় থাইল্যান্ড। এ বিষয়ে বুধবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দুই পক্ষের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিনিময় হয়।
থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, বর্তমানে চারটি দেশের সঙ্গে কর্মী নিয়োগের চুক্তি রয়েছে থাইল্যান্ডের। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার পর দেশটি থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। এতে থাইল্যান্ডের নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগের কথাও জানায় থাই প্রতিনিধিদল। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থাইল্যান্ডে অবস্থান, দেশটিকে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের ঝুঁকি।
থাই পক্ষের এসব উদ্বেগ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়গুলো সমাধান করে শিগগিরই বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৪তম বার্ষিকীও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিক ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তার বহন করা উচিত। একই সঙ্গে স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, মানসম্মত আবাসন এবং চিকিৎসাবিমাসহ কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে, আর বাংলাদেশের রয়েছে বিপুলসংখ্যক কর্মী। তিনি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য থাই প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে শুধু ‘ব্লু কলার’ কর্মীরই চাহিদা নেই, ‘হোয়াইট কলার’ পেশাতেও বাংলাদেশে উপযুক্ত ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও কম খরচের নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় দুই দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
