রাতের মেট্রোরেলে বাড়তি যাত্রী চাপ সামলাতে আরও দুটি ট্রেন যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। চলতি আগস্টের শেষ দিকে নতুন ট্রেন দুটি চালু হলে রাতের ট্রেনগুলোর মধ্যকার ২০ মিনিটের বিরতি কমে ৭ থেকে ৮ মিনিটে নামতে পারে। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের রাতের চলাচলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে কর্তৃপক্ষ। সে ক্ষেত্রে শেষ ট্রেন রাত ১১টায় ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ৭ জুন থেকে রাতে উভয় দিকের মেট্রোরেলের চলাচল ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শেষের ট্রেন দুটির মধ্যে বর্তমানে ২০ মিনিটের বিরতি থাকায় যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। দুটি ট্রেন বাড়ানোর পর দৈনিক যাত্রীসংখ্যাও প্রায় ১০ হাজার বেড়েছে বলে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের হিসাবে জানা গেছে।
রাতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়াতে অতিরিক্ত ট্রেনচালক বা অপারেটর প্রয়োজন হবে। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, ইতিমধ্যে অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে। আগামী ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা। এরপর তাঁদের দিয়ে ট্রেন পরিচালনার কাজ শুরু হবে।
রাতের চলাচলের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশে রাতের শেষ মেট্রোরেল ছাড়ে রাত সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে মতিঝিলের পথে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। সকালে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী প্রথম ট্রেন ছাড়ে সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। আপাতত সকালের সময়সূচি বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির। প্রকল্প গ্রহণের সময় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় শুরু থেকেই সেই সময়সূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ানো হচ্ছে।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলে প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী চলাচল করবেন—এমন হিসাব ছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন।
এদিকে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশটি আগামী বছর চালু হতে পারে। সেটি চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
ঢাকায় মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করত। পরে ধাপে ধাপে আরও স্টেশন চালু করা হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। নতুন ট্রেন যুক্ত হলে ট্রেন দুটির মধ্যকার বিরতিও কমে আসবে। আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
