অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা ও লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। অভিযানে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ব্যাংক কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাগর শিকদার (৩২), অমল কীর্তনিয়া অভি (৩০), মিথুন সরকার (২৪), সুনীল মৃধা (২৫), কাজী উসরাত আঞ্জুমান মেঘা (২০), মারুফা (২১) ও মো. রাকিবুল হাসান (৩২)।
ডিবি সূত্র জানায়, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্ম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জুয়া পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনে বিভিন্ন এমএফএসের এজেন্ট, মার্চেন্ট ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরে ওইসব ওয়েবসাইট ও অ্যাপ থেকে পাওয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করে ডিবি।
ডিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে চক্রটির মূলহোতা হিসেবে পরিচিত সাগর শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪৮৪টি এমএফএস অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিমকার্ড, ৪৬টি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, আটটি ল্যাপটপ, ২৭টি ব্যাংক কার্ড, তিনটি ডায়েরি এবং দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
ডিবির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইট ও অ্যাপের জন্য এমএফএস ওয়ালেট সরবরাহ করে সংশ্লিষ্ট লেনদেন সচল রাখাই ছিল গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রধান কাজ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
