ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার পর নিজের ও স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একই সঙ্গে অপ্রতীম হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাতে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব উদ্বেগের কথা জানান অপ্রতীমের মা।
ড. নাহিদা বেগম বলেন, তাঁর ছেলে আর নেই। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা শাস্তি ভোগ করে কয়েক বছর পর কারাগার বা সংশোধনাগার থেকে বের হলে তিনি ও তাঁর স্বামী নিরাপদ থাকবেন কি না, সেটিই তাঁর উদ্বেগ।
অপ্রতীম হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁর মা।
তিনি বলেন, অপ্রতীমের জন্য যারা আন্দোলন করছে, তারাও নিরাপদ কি না—এ নিয়ে তিনি চিন্তিত। তাদের হয়ে যারা লড়ছেন, তাঁদেরও ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে কি না, সে আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
অপ্রতীমকে হত্যার পেছনে আইফোনের প্রতি লোভ, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা অপহরণের পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন ড. নাহিদা বেগম।
তাঁর ধারণা, অপ্রতীম ঈদে সালামি ও বিভিন্ন সময়ে পরিবারের কাছ থেকে নানা জিনিস পেত। এসব দেখে কারও মধ্যে লোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া অপ্রতীমের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিস নেওয়া অথবা একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
অপ্রতীমের মায়ের আরেকটি সন্দেহ, মাদকবিরোধী অভিযানের কারণেও তাঁর ছেলে হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
ড. নাহিদা বেগম বলেন, তাঁর অভিযানের সময় তুহিন গ্যাংয়ের কেউ আটক হয়েছিল। যারা ওই গ্যাংকে মাদক সরবরাহ করত, তাদেরও তাঁর ওপর ক্ষোভ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এটিকে তিনি হত্যাকাণ্ডের একটি সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
