আইন সংশোধনের মাধ্যমে দল হিসেবেও বিচারের পথ উন্মুক্ত, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে উদ্যোগের কথা জানালেন সালাহউদ্দিন আহমদ
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নয়, বরং আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে আইনের শাসন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই সরকার আস্থা রাখে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ফলে ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয় পর্যায়ে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গণহত্যার অভিযোগে কোনো সংগঠনের দায় নির্ধারণের বিষয়টি সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আওতায় বিবেচনা করা সম্ভব। এ কারণে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিও আইনি কাঠামোর মধ্যেই হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে সাধারণ মানুষের অবদানই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠন এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।
তিনি বলেন, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেওয়ার ফলে আন্দোলনটি গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে।
ভবিষ্যতে যেন কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবে গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সাবেক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকার রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো আইনের নির্ধারিত পথেই এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
