গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন, উগ্রবাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
বাংলাদেশে আগামী এক শতাব্দীর মধ্যেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে মানুষের যে প্রত্যাশা ও স্বপ্ন ছিল, বাস্তবতার সঙ্গে তার বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষ বহুবার ভাববে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।
রুমিন ফারহানা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ও অর্জন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা অনেকের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।
তিনি দাবি করেন, গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ভবিষ্যতে জনগণ একই ধরনের আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নেবে।
আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা দেশে উগ্রবাদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে উগ্রবাদী প্রবণতা বেড়েছে বলে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতি আগে থেকে জানা থাকলে আন্দোলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকে নতুন করে ভাবতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় হিজাবধারী ও হিজাববিহীন নারীরা সমানভাবে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ কেন বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এসব ঘটনার দায় কার এবং কেন মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক ক্ষেত্রে পূরণ হয়নি। তাঁর মতে, জনগণ বারবার ত্যাগ স্বীকার করেছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল সবসময় পায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থান বা গণআন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম ও রাষ্ট্রীয় নীতির ওপরই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনায় রুমিন ফারহানার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এ মন্তব্য সামনে এলো।
