হিজবুল্লাহ, হুথি, হামাস ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ; সামরিক যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণও বেড়েছে
ইরান তার আঞ্চলিক মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের মতো বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, এবার হামলায় লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ার ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সমন্বিতভাবে অংশ নিতে পারে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্টের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় ইরান ও হিজবুল্লাহকে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা আগে জানানো হয়নি। ফলে সেদিন হামাসের হামলার সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি সমন্বিত ছিল না।
পরে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সীমিত হামলা চালায়। তবে এবার ইরান সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করে শুরু থেকেই একযোগে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো একটি গোষ্ঠী হামলা চালানোর পর অন্যরা যুদ্ধে যোগ দেবে—এমন পরিকল্পনার পরিবর্তে এবার শুরু থেকেই একসঙ্গে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ, হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন ইরানপন্থী মিলিশিয়া একই সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে ইসরায়েলের উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ছে।
এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াগুলোর কমান্ডারদের সঙ্গে সরাসরি ও অনলাইনে বৈঠক করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এসব আলোচনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা আরও বিস্তৃত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ইসরায়েলি পক্ষের দাবি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শুধু বৈঠক নয়, সামরিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগও বেড়েছে। যৌথ প্রশিক্ষণের ঘটনাও শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফলে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের আরও দাবি, আগের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে ইরান।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই গোয়েন্দা দাবির বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদানের তথ্য প্রদত্ত প্রতিবেদনে নেই।
