কারিগরি ত্রুটির কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ইউনিটটির প্রধান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ফিড ইউনিটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এটি বন্ধ করা হয়।
তিনি জানান, ফিড ইউনিটটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।মেরামতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে
বিপিডিবি জানিয়েছে, মেরামতের কাজ শুরুর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটিকে ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এ কারণে ত্রুটি সারাতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, আদানি-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময়ও লাগতে পারে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত পর্যন্ত আদানি পাওয়ার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছিল। এরপর উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আগেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছিল না। এর মধ্যে বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করার রেকর্ডও রয়েছে।
দেশে দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকট চলছে। এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি ও গ্যাস আমদানির সংকটের কারণে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। এর মধ্যে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন দেশে লোডশেডিং ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল। পরদিন সকালেও তা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি ছিল। তবে দুপুর ১টার দিকে পাওয়ার গ্রিডের হিসাবে লোডশেডিং ছিল ৫৫০ মেগাওয়াট।
